শনিবার, ২০ Jun ২০২৬, ০৩:৪১ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

পিএমখালীতে ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ

অভিযুক্ত ডিলার মনিরুল আলম ও জহির উদ্দিন। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজার সদর উপজেলা পিএমখালী ইউনিয়নের খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের বিরুদ্ধে ১৫ টাকা কেজি দরের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা যায়, পিএমখালী ইউনিয়নের খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচির ডিলার ৪নং ওয়ার্ড পরনিয়া পাড়া এলাকার মৃত ছানা উল্লাহর পুত্র জহির উদ্দিন ও জুমছড়ি এলাকার মৃত মোহাম্মদের পুত্র সাবেক মেম্বার মনিরুল আলম সরকারি চাল কারসাজির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়াও এ দুই ডিলারের বিরুদ্ধে চাল বিতরণে ২-৪ কেজি চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

পিএমখালীর ৬ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় মেম্বার জামাল উদ্দিন প্রতিবেদককে জানান, প্রতিবারে তার ওয়ার্ডের বেশ কয়েক সদস্য চাল পায়না। এবারেও বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়। আবার ৩০ কেজি চালের মূল্য নিয়ে ওজনে ৩/৪ কেজি চাল কম দেয়। প্রতিমাসে একই অবস্থা। ৩০ বার কল করলেও ফোন রিসিভ করে না জহির ও মনির। এনিয়ে ভূক্তভোগী মানুষের অভিযোগ শুনতে শুনতে ঘরে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।চাল আত্মসাতকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি ।
ইউপি সচিব দোলন পাল জানান,খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের সাথে ইউনিয়ন পরিষদের কারোর সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে ট্যাগ অফিসার অনুপ দাশ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়ে অবহিত করবেন।

সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নে খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচিতে ৮ হাজার ৪৩৬ জন কার্ডধারী সদস্য। তন্মধ্যে পিএমখালী ইউনিয়নে ভিজিডি সদস্য ১১শত ৯০ জন।

পাতলী এলাকার ভুক্তভোগী ফরিদুল আলম ও নছিমা বেগম বলেন, আমাদে মতো অনেকের চাল দেয়নি জহির। কয়েকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও দেই-দিচ্ছি বলে সময় পার করেন। আমাদের চালগুলো কোথায় গেলো? এক মাসের বেশি সময় চলে গেলেও এখনো অনেকে চাল পাননি। আমরা ভুক্তভোগীরা তার কাছে চাল চাইতে গেলে সদুত্তর না দিয়ে পরে দেখা করতে বলেন।

কার্ডধারী কিন্তু চাল না পাওয়া ছনখোলা গ্রামের আকলিমা খাতুন, তোতকখালী তাহের মোঃ ঘোনা এলাকার মুজিবুর রহমান সহ অনেকেই বলেন, ‘আমরা অতিসাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। দিনে এনে দিনে খেতে হয়। সরকার ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরণ করার জন্য দিয়েছেন। চালের জন্য গেলে প্রথম কয়েক দিন শতশত মানুষের ভিড়ে লেগে থাকে।তাই সারাদিন অপেক্ষা করেও চাল না নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। এরপর ২/৩ দিন পরে গেলে মনির মেম্বার আর চাল দেয়না। বলেন চাল বিক্রি হয়ে গেছে। মাষ্টার রুল অফিসে জমা দিয়েছে। অথচ উঁকি দিয়ে দেখলেই তার দোকানে বস্তাভরা চাল দেখা যায়।

৪ নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী সদস্য নুরুল ইসলাম ও রমজান আলী জানান, চাল বিতরণের খবর পেয়ে পরপর কয়েকদিন চালের জন্য গিয়ে দোকান বন্ধ পেয়ে ফেরত যায়। মোবাইলে কল করলে রিসিভ করে না। সর্বশেষ গত সপ্তাহে চালের জন্য গিয়ে তাকে না পেয়ে বাড়িতে যান ভুক্তভোগী মুজিবুর রহমান। ডিলার জহিরকে চালের কথা বলতেই জানিয়ে দেন চাল নেই।

এক পুরুষ কার্ডধারী সহ ২/৩ জন মহিলা ঘন্টা দেড়েক ধরে একটি বন্ধ দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
ইউনিয়ন পরিষদে একটি বিশেষ কাজে যাওয়ার সময় ও ফেরার সময় একই স্থানে তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এর কারণ জিজ্ঞাসা করেন প্রতিবেদক।এ সময় কার্ড হাতে থাকা সত্তরোর্ধ্ব এক মুরব্বি জানায়, গতকাল এক মেম্বারের রিকুয়েস্টে একজন কার্ডধারীকে চাল দিয়েছে জহির।এমন খবর পেয়ে আমরাও আমাদের চালের জন্য কার্ড নিয়ে এসে দেখতেছি দোকান বন্ধ। তাকে কল করলে ফোন রিসিভ করছে না। পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বারকে বলেছি। তাদের কলও রিসিভ করেননি জহির।অথচ দোকান ভর্তি চাল দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবারেই এসব সরকারি চাল লোক দেখানো কিছু বিক্রি করেন একই সূত্রে গাঁথা জহির ও মনির। সুবিধাভোগী কার্ডধারীদের যে কেউ চালের জন্য গেলে আজ নয় কাল বলে টাইম পাস করেন।এরপর কোন একদিন কার্ডধারীদের ভূয়া টিপসই দিয়ে রাত গভীরে চালগুলো বিক্রি করে দেয়। এভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ গরীবের প্রাপ্য চাল আত্মসাৎ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জহির ও মনির।
অভিযুক্ত ডিলার জহির উদ্দিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করে মোবাইলে রিং হলেও কল রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি। মনিরুল আলম বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। কিছু লোক তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা’র মুঠোফোনে কল করলে, ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভয়েস/জেইউ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION